ডেটাভিত্তিক অনুসন্ধান

রেকর্ড লোডশেডিংয়ের ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসলে কী ঘটেছিল?

হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আছে বাংলাদেশের। তারপরও ১০ আগস্ট রেকর্ড লোডশেডিং কেন হল?

ডেটা এক্সপ্লেইনার১৫-০৮-২০২৬
১০ আগস্টের প্রথম ঘণ্টায় (৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায়) দেশে রেকর্ড তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হল। এর কারণ বিষয়ে সবচেয়ে সহজ ব্যাখ্যা যা শোনা যায় তা হলো গ্যাসের ঘাটতি। 

গ্যাস সংকটের বিষয়টি দেশের সবাই জানে। ডেটা এক্সপ্লেইনার জানতে চেয়েছে অন্য একটি বিষয়: ঠিক যে সময়ে লোডশেডিংয়ে রেকর্ড হলো, তার আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় কী হয়েছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমরা ৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা থেকে ১০ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা (অর্থাৎ ১১ আগস্টের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত) বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য ঘণ্টায় ঘণ্টায় সাজিয়ে দেখেছি। এরপর গ্যাস, কয়লা, তরল জ্বালানি, বিদ্যুৎ আমদানি, চাহিদা ও লোডশেডিংয়ের পরিবর্তন মিলিয়ে দেখেছি।

সবচেয়ে আগে যে বিষয়টি চোখে পড়েছে, তা হলো তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের অস্বাভাবিক ওঠানামা। এই ওঠানামাই কি রেকর্ড লোডশেডিংয়ের কারণ? ওই ২৪ ঘণ্টায় তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কীভাবে বদলেছে? 

১০ আগস্টের প্রথম ঘণ্টায় (রাত ১টা) তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন ছিল এক হাজার ৬৮২ মেগাওয়াট। এরপর তা প্রায় প্রতি ঘণ্টায় কমতে থাকে। সকাল ৭টায় নেমে আসে এক হাজার ১১৮ মেগাওয়াটে।

২৪ ঘণ্টায় তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন

৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা থেকে ১০ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত ঘণ্টাভিত্তিক উৎপাদন

উৎস: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ও এনএলডিসি। একক: মেগাওয়াট।

ওপরের বাঁকানো রেখাটিই ১০ আগস্টের বিদ্যুৎপ্রবাহের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন সারাদিন ওঠানামা করেছে। সকাল ৭টায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার পর সন্ধ্যায় প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বাড়ানো হয়েছিল। আবার রাত গভীর হওয়ার হতে-হতে এই উৎসের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়েছিল।

তবে দিনের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ২৪ ঘণ্টার পরিসরের একেবারে শুরুতেই, রাত ১টায়। রেকর্ড লোডশেডিংয়ের আগে আসলে কী কমেছিল?

৯ আগস্ট রাত ১০টায় মোট বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১৫ হাজার ৫৭ মেগাওয়াট। তিন ঘণ্টা পর, দিবাগত রাত ১টায় (১০ আগস্ট), তা নেমে আসে প্রায় ১৩ হাজার ১৬২ মেগাওয়াটে। 

আমরা ওই তিন ঘণ্টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎসগুলো আলাদা করে দেখেছি। ওই সময় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন তিন হাজার সাতশ ৪৬ মেগাওয়াট থেকে ১০০ মেগাওয়াটে বেড়েছিল।

কয়লাভিত্তিক উৎপাদন কমেছিল প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট এবং ভারতের আদানি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ কমেছিল প্রায় ২৮২ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বড় পতনটি হয়েছিল তরল জ্বালানির বিদ্যুতে।

রাত ১০টার তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ এসেছিল দুই হাজার ৯৪০ মেগাওয়াট। তিন ঘণ্টার ব্যবধানের (রাত ১টায়) তা কমে যায় এক হাজার ২৫৮ মেগাওয়াট। 

ওই সময়ে মোট উৎপাদন ও আমদানি যতটা কমেছিল, তার প্রায় ৬৬.৪ শতাংশের সমান ছিল তরল জ্বালানির উৎপাদন হ্রাস। এর মানে এই নয় যে তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের ৬৬.৪ শতাংশের কারণ তরল জ্বালানি। সেই দাবি করার মতো তথ্য আমাদের হাতে নেই। 

তবে ওই তথ্য থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়: রেকর্ড লোডশেডিংয়ের আগে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছিল কোন ধরনের বিদ্যুৎ উৎসে? উত্তর: তরল জ্বালানিতে। 

আবার এই পতনের সময় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন কমেনি। ফলে রাত ১টার রেকর্ড লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ গ্যাসের ঘাটতি– ঘণ্টাভিত্তিক ডেটা সেটা সমর্থন করে না।

রেকর্ড লোডশেডিংয়ের আগে কোন উৎপাদন সবচেয়ে বেশি কমেছিল?

৯ আগস্ট রাত ১০টা থেকে দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত প্রধান উৎসগুলোর উৎপাদনের পরিবর্তন

তিন ঘণ্টায় তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন কমেছিল ১,২৫৮ মেগাওয়াট।

উৎস: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। হিসাব: ডেটাএক্সপ্লেইনার।

সকালেও কমে তরল জ্বালানির উৎপাদন
ওই দিন ১টার পরও তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিম্নমুখী ধারা থামেনি। সকাল ৭টার মধ্যে তরল জ্বালানি থেকে আরও ৫৬৪ মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যায়। 

একই সময়ে লোডশেডিং তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট থেকে কমে হয় দুই হাজার ৭০৩ মেগাওয়াট। কারণ এই সময়ে বিদ্যুদের চাহিদা কমেছিল এবং কয়লা, আমদানি ও অন্য উৎসের উৎপাদনও বদলেছিল।

তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন কমেছে বলে লোডশেডিং বেড়েছে– বিষয়টি এমন সরল নয়। 

সকাল ৭টার পর তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন আবার বাড়তে শুরু করে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ে ৪৬৭ মেগাওয়াট।

ওদিকে লোডশেডিং সকাল ৯টায় নেমেছিল দুই হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াটে যা দুপুর ১২টায় পৌঁছায় দুই হাজার ৯৩২ মেগাওয়াটে। ওই সময় চাহিদা বাড়ছিল। আবার সরবরাহে যুক্ত হচ্ছিল সৌরবিদ্যুৎ; বদলাচ্ছিল কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

তরল জ্বালানির ভূমিকা বোঝার সবচেয়ে পরিষ্কার সময়টি আসে বিকেল থেকে সন্ধ্যায়।
বিকেল থেকে সন্ধ্যায় বাড়তি বিদ্যুৎ এল কোথা থেকে?
দুপুর ৩টায় মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ১৩ হাজা ৯২৫ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং তিন হাজার ৪০৮ মেগাওয়াট। 

পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৮টায় মোট উৎপাদন বেড়ে ১৫ হাজার ৬২১ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, আর লোডশেডিং কমে এক হাজার ৯৯৯ মেগাওয়াটে। এই পাঁচ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উৎসে নানা বদল দেখা যায়।

বিকেল থেকে সন্ধ্যায় বাড়তি বিদ্যুৎ কোথা থেকে এলো?

১০ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রধান উৎসগুলোর উৎপাদনের পরিবর্তন

পাঁচ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন (১,৪৭৫ মেগাওয়াট)।

উৎস: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ও এনএলডিসি। হিসাব: ডেটাএক্সপ্লেইনার।

তরল জ্বালানি থেকে উৎপাদন বাড়ে এক হাজার ৪৭৫ মেগাওয়াট। কয়লা থেকে ৪৩৩, গ্যাস থেকে ১৬৭ এবং আমদানি থেকে বাড়ে ১৪২ মেগাওয়াট বেড়েছে। একই সময়ে সূর্য ডুবে যাওয়ায় সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ৫২১ মেগাওয়াট কমে। 

সন্ধ্যায় বাড়তি উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অংশটি এসেছে তরল জ্বালানি থেকে। দিনের প্রথম ভাগে যে উৎস দ্রুত নিচে নেমেছিল, সন্ধ্যায় সেই উৎস থেকেই সবচেয়ে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। 

এ পর্যায়ে আমরা ১০ আগস্টের প্রতিটি বড় উৎসের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ঘণ্টার উৎপাদনের ব্যবধান হিসাব করেছি। কোন উৎসটি সারা দিনের বিদ্যুৎ সরবরাহে সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করেছে তা বুঝতে এই হিসাবটি করা হয়েছে।

১০ আগস্ট সবচেয়ে বেশি ওঠানামা করেছে তরল জ্বালানির উৎপাদন

প্রধান উৎসগুলোর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ঘণ্টার উৎপাদনের ব্যবধান

উৎস: পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। হিসাব: ডেটাএক্সপ্লেইনার।

তরল জ্বালানির ক্ষেত্রে উৎপাদনের ব্যবধান ছিল দুই হাজার ৭৮ মেগাওয়াট। কয়লায় ৫৭৯, গ্যাসে ৪২১ এবং আমদানিতে ৩২১ মেগাওয়াট।

এখানেই গ্যাস ও তরল জ্বালানির ভূমিকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়। গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সারাদিনই নিম্নমাত্রায় ছিল। 

কিন্তু ঘণ্টায় ঘণ্টায় উৎপাদন বৃদ্ধি বা কমায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তরল জ্বালানি। 

যত চাহিদা তত লোডশেডিং?
এর উত্তর হলো: না। 

৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় (১০ আগস্ট প্রথম ঘণ্টা) চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৮৮ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। কিন্তু ১০ আগস্ট রাত ৯টায় চাহিদা বেড়ে হয় ১৮ হাজার ৫১৯ মেগাওয়াট। তবে তখন লোডশেডিং ছিল দুই হাজার ৬৯২ মেগাওয়াট, যা রেকর্ড লোডেশিংয়ের এক হাজার ৬৫ মেগাওয়াট কম।

ওই সময় তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন ছিল তিন হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট যা সেই রাত ১টার চেয়ে এক হাজার ৫১৪ মেগাওয়াট বেশি। কয়লা ও আমদানি উৎস থেকেই তখন বিদ্যুৎ বেশি ছিল।

রাত ৯টায় তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল (তিন হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট)। তবে এরপরই তা কমতে শুরু করে দিবাগত রাত ১টায় (১১ আগস্ট প্রথম ঘণ্টা) এক হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে। চার ঘণ্টায় উৎপাদন কমে এক হাজার ৩২৮ মেগাওয়াট।

চাহিদা বেশি হলেও লোডশেডিং কম ছিল

৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টা এবং ১০ আগস্ট রাত ৯টার তুলনা

রাত ৯টায় চাহিদা প্রায় ১,৪৩১ মেগাওয়াট বেশি ছিল, তবু লোডশেডিং প্রায় ১,০৬৫ মেগাওয়াট কম ছিল।

উৎস: এনএলডিসি। একক: মেগাওয়াট।

এই কমে যাওয়াকে দিনের আগের অংশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে একটি নির্দিষ্ট ধরন দেখা যায়: রাত গভীর হওয়ার পর কম উৎপাদন, সকালে সর্বনিম্ন পর্যায়, দিনে ধীরে বাড়ানো, সন্ধ্যার পর বেশি চাহিদার আগে দ্রুত বাড়ানো এবং সেই সময় পার হওয়ার পর আবার নামিয়ে আনা।

এত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেগুলো চলেনি কেন?
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আগস্টের হিসাব অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা পাঁচা হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট এবং ডিজেলভিত্তিক সক্ষমতা ৭৬৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে তরল জ্বালানিভিত্তিক কার্যকর সক্ষমতা ছয় হাজার ৪০৫ মেগাওয়াট।

তবে সকাল ৭টায় এই উৎস থেকে উৎপাদন ছিল মাত্র এক হাজার ১১৮ মেগাওয়াট। রাত ৯টায় দিনের সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল তিন হাজার ১৯৬ মেগাওয়াট যা সক্ষমতার অর্ধেক।

এক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা ভাল: বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকর সক্ষমতা আর সুনির্দিষ্ট ঘণ্টায় সতিকার উৎপাদন সক্ষমতা এক নয়। জ্বালানির ঘাটতি, যান্ত্রিক সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণ, কেন্দ্রের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং বিদ্যুৎব্যবস্থা পরিচালনার সিদ্ধান্ত- নানা কারণে সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন কম হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে আমরা দেখতে চেয়েছি ওই সময় জ্বালানির ঘাটতি ছিল কি না। এজন্য আমরা বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, বিতরণ ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ১ থেকে ১৩ আগস্টের দৈনিক ফার্নেস অয়েলের মজুতের প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছি।

রেকর্ড লোডশেডিংয়ের আগে ফার্নেস অয়েলের মজুত কি হঠাৎ কমেছিল?

বিপিসির হিসাবে ১ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ফার্নেস অয়েলের দৈনিক মজুত

৯ আগস্ট মজুত ছিল ৩১,১৩০ মেট্রিক টন। ১০ আগস্ট ছিল ৩১,০৩৪ মেট্রিক টন—পার্থক্য মাত্র ৯৬ মেট্রিক টন।

উৎস: বিপিসির দৈনিক মজুত প্রতিবেদন। একক: মেট্রিক টন।

চার্টের প্রথম অংশটি বলছে, আগস্টের শুরু থেকে মজুতে চাপ ছিল। 

তবে ৯ ও ১০ আগস্টের দুটি সংখ্যা পাশাপাশি রাখলে অন্য একটি বিষয় দেখা যায়। ৯ আগস্ট মজুত ছিল ৩১ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন। ১০ আগস্ট ৩১ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন। পার্থক্য মাত্র ৯৬ মেট্রিক টন।

অর্থাৎ রেকর্ড লোডশেডিংয়ের সময় বিপিসির ফার্নেস অয়েলের সামগ্রিক মজুত হঠাৎ ধসে পড়েনি। বিপিসির হিসাবে ফার্নেস অয়েল ছিল।

অন্যদিকে ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নথিতে একাধিক তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির ঘাটতি থাকার কথা বলা হয়। এনএলডিসি হলো বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও গ্রিড ফ্রিকোয়েন্সি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করে থাকে।

বিপিসির হাতে ফার্নেস অয়েল মজুত থাকা, এবং এনএলডিসির তরল জ্বালানি ঘাটতির সতর্কতা দুটি বিষয়ই একই সঙ্গে সত্য হতে পারে। কারণ বিপিসির ডিপোয় তেল থাকা আর কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি থাকা এক কথা নয়। তেল অন্য ডিপোয় থাকতে পারে, অন্য প্রতিষ্ঠানের মজুতে থাকতে পারে, বেসরকারি টার্মিনালে থাকতে পারে, পথেও থাকতে পারে। 

ফলে সমস্যা তরল জ্বালানি তেল থাকা না থাকা নয়। সমস্যা হলো: যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তেল দরকার তার কাছে তা ছিল কি না।

সব তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও আবার বিপিসির সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না। যেমন সামিটের কোড্ডা কেন্দ্রগুলোর জন্য নিজস্ব বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইউনাইটেডের আনোয়ারার ক্ষেত্রেও নিজস্ব আমদানি, টার্মিনাল, জেটি ও পরিবহনব্যবস্থার যোগসূত্র পাওয়া যায়।

তাই বিপিসির মোট মজুত দিয়ে সব কেন্দ্রের হাতে কত জ্বালানি ছিল তা জানা যায় না।

তাহলে ১০ আগস্ট কোন কেন্দ্রের কাছে তেল ছিল? এর উত্তর আমরা পাইনি। কেন্দ্রভিত্তিক ট্যাংকের মজুত, জ্বালানি গ্রহণের হিসাব, চালান ও ঘণ্টাভিত্তিক উৎপাদনের পূর্ণ নথি আমরা উন্মুক্ত উৎসে খুঁজে পাইনি।

তাই ৯ আগস্ট রাত ১০টা থেকে দিবাগত রাত ১টার মধ্যে তরল জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদনের এক হাজার ২৫৮ মেগাওয়াট পতনের কতটা জ্বালানির অভাবে, কতটা যান্ত্রিক সমস্যায় বা পরিচালনাগত সিদ্ধান্তে হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।