নথিভিত্তিক অনুসন্ধান

গ্যাস সংকট : বিকল এলএনজি টার্মিনাল সম্পর্কে যা জানা গেল

দেশের গ্যাস সরবরাহ যে দুটি সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালের ওপর ব্যাপক মাত্রায় নির্ভরশীল সেগুলো সম্পর্কে উন্মুক্ত নথি থেকে কতটুকু কী জানা যায়?

ডেটা এক্সপ্লেইনার ০৩-০৮-২০২৬

মহেশখালীর উপকূলে দুটি বিশাল জাহাজ। তবে এগুলো সমুদ্রগামী নয়। অন্য জাহাজ এসে এই জাহাজ দুটিকে তরল গ্যাস দিয়ে যায়। সেই তরল গ্যাসকে আবার গ্যাস বদলে দেয় জাহাজ দুটি। তারপর সমুদ্রের নিচের পাইপলাইন দিয়ে ছড়িয়ে দেয় সারা দেশে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশের পথে এক্সেলেন্স
২০১৮ সালে বাংলাদেশের পথে এক্সেলেন্স। ছবি গাল্ফ টাইমস থেকে নেয়া।

উত্তাল সমুদ্রের কারণে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে গেলে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যক্রম স্থগিত হলে কিংবা গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে ভাসমান টার্মিনাল দুটি সাময়িকভাবে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেগুলো আবার দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।

অথচ এই দুই জাহাজই দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো। এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এই জাহাজ দুটি সম্পর্কে উন্মুক্ত তথ্য অত্যন্ত সীমিত।

জাহাজ দুটি কোথা থেকে এসেছে? বাংলাদেশে আসার আগে অন্য কোথাও ব্যবহার হয়েছে? কিভাবে এগুলোর কারিগরি পরিদর্শন ও আন্তর্জাতিক সনদ দেয়া হয়? বড় ধরনের মেরামতের সময় কী ঘটে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন– এসব তথ্যের কতটুকু সাধারণ মানুষ যাচাই করতে পারে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধান শুরু করে ডেটা এক্সপ্লেইনার

এই অনুসন্ধান এ কারণে নয় যে, টার্মিনাল দুটি নিয়ে কোনো অনিয়ম সন্দেহ করা হচ্ছে বা জাহাজ দুটির নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ডেটা এক্সপ্লেইনার বুঝতে চেয়েছে : গ্যাসের জন্য বাংলাদেশ যে দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো সম্পর্কে উন্মুক্ত নথি থেকে কী জানা সম্ভব এবং কী জানা অসম্ভব?

মহেশখালীতে সক্রিয় এক্সেলেন্স কি সেই জাহাজ?

অনুসন্ধানের প্রথম প্রশ্ন ছিল: মহেশখালীতে থাকা পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্স কি সেই জাহাজ, যাকে দুই দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের প্রথম সমুদ্রভিত্তিক এলএনজি প্রকল্পে দেখা গিয়েছিল?

এর উত্তরের প্রথম সূত্রটি পাওয়া যায় জাপানের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি গবেষণা সংস্থা জাপান অর্গানাইজেশন ফর মেটালস অ্যান্ড এনার্জি সিকিউরিটি (জেওজিএমইসি)-এর একটি প্রকাশনায়। ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি ডেটা হাব শিরোনামের প্রকাশনাটি প্রকাশ হয় গতবছর। এর কোম্পানি প্রোফাইল অংশে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে কার্যক্রম শুরু করা এক্সেলেন্স বর্তমানে বাংলাদেশের মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নথি ১
২০০৫ সালে তৈরি পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্সই বর্তমানে মহেশখালীতে
JOGMEC ২০২৫ নথিতে Excellence ও ২০০৫ থেকে Receiving terminal হয়ে Moheshkhali-এর সম্পর্ক তীরচিহ্নে দেখানো

এই জাহাজই সেই জাহাজ কি না তা নিশ্চিত হতে শুধু জাহাজের নামে নির্ভর করা যায় না। একই নামে একাধিক জাহাজ থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে জাহাজের মালিকানা, পতাকা, এমনকি নামও বদলাতে পারে।

তাই আমরা এক্সেলেন্সের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার স্থায়ী আইএমও নম্বর খুঁজতে শুরু করি। কারণ এই নম্বরটি দেয়া হয় একটি জাহাজ নির্মাণ বা নিবন্ধনের সময় যা তার পুরো কর্মজীবনে অপরিবর্তিত থাকে।

এই আইএমও নম্বরের খোঁজে প্রথমে জাহাজ বিষয়ক আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার ইকুয়াসিসে “Excellence” নামে অনুসন্ধান করা হয়। সেখানে একই নামে ১০টি জাহাজ পাওয়া যায়। ফলে শুধু নাম দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজটিকে আলাদা করা সম্ভব ছিল না।

সহায়ক নথি ১.১
একই নামে ১০টি জাহাজ – সঠিক এক্সেলেন্স শনাক্ত করতে আইএমও প্রয়োজন
Equasis-এ “Excellence” অনুসন্ধানে দশটি জাহাজের ফলাফল
Equasis · Search resultsEquasis-এ খুলুন

তালিকার প্রথম জাহাজটির আইএমও ৯২৫২৫৩৯। এর ধরন অফশোর প্রসেসিং শিপ, অর্থাৎ এটি সমুদ্রে থেকে পুনঃগ্যাসীকরণ করতে পারে এমন একটি জাহাজ। এর নির্মাণ সাল ২০০৫ এবং পতাকা বেলজিয়ামের – এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্সের সঙ্গে মেলে।

ফলে মহেশখালীতে নিয়োজিত জাহাজটির বিষয়ে আমরা পরবর্তী অনুসন্ধান শুরু করতে সক্ষম হই। কারণ এর আইএমও নম্বর জানা থাকায় এর ভিত্তিতে পরব্রতী অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।

এরপর আমরা ইকুয়াসিসের জাহাজের ইতিহাস অংশ দেখি। সেখানে আইএমও ৯২৫২৫৩৯-এর নিবন্ধিত মালিক হিসেবে এফএসআরইউ ভেসেল এক্সেলেন্স এলএলসি, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক হিসেবে এক্সিলারেট এনার্জি এলপি এবং আইএসএম ব্যাবস্থাপক হিসেবে এক্সিলারেট টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিভি'র নাম পাওয়া যায়। এসব তথ্যে জাহাজটির সঙ্গে এক্সিলারেট গ্রুপের পরিচালনাগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।

সহায়ক নথি ১.২
শিপ হিস্ট্রিতে এক্সিলারেটের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক
Equasis Ship History-তে Excellence-এর মালিক ও ব্যবস্থাপনা ইতিহাস
Equasis · Ship History · IMO 9252539Equasis-এ খুলুন

পরবর্তী ধাপে একই আইএমও নম্বর ব্যুরো ভেরিতাসের শ্রেণিবিন্যাস নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। সেখানে এক্সেলেন্সের আইএমও (৯২৫২৫৩৯), ২০০৫ সালের নির্মাণ তথ্য, পুনঃগ্যাসীকরণ-সংক্রান্ত শ্রেণিকরণ এবং সক্রিয় শ্রেণি অবস্থা পাওয়া যায়। এসব তথ্যের মধ্য দিয়ে ইকুয়াসিসে শনাক্ত করা জাহাজটির পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়।

সহায়ক নথি ১.৩
ব্যুরো ভেরিতাসে একই আইএমও, নির্মাণ সাল ও এফএসআরইউ শ্রেণি
Bureau Veritas রেজিস্টারে Excellence (IMO ৯২৫২৫৩৯)
Bureau Veritas Fleet Registerমূল PDF খুলুন

এক্সেলেন্স কি বিশ্বের প্রথম ভাসমান টার্মিনাল প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছিল?

এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এমএআরএডি) একটি নথিতে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার উপকূলে ২০০৪ সালের লাইসেন্স এবং ২০০৫ সালে গাল্ফ গেটওয়ের কার্যক্রম শুরুর তথ্য রয়েছে।

নথিতে একথাও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ২১ আগস্ট এক্সেলেন্সকে গাল্ফ গেটওয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ দেয়া হয়; এবং ২২ থেকে ৩১ আগস্ট সেখানে এলএনজি স্থানান্তর চলে।

নথি ২
২০০৫ সালে গাল্ফ গেটওয়েতে এক্সেলেন্সের কার্যক্রমের সরকারি রেকর্ড
MARAD/USCG রেকর্ডে Gulf Gateway-এর প্রকল্প, লাইসেন্স ও কার্যক্রম
MARAD Deepwater Ports record (archived in USCG docket)মূল PDF খুলুন

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ রক্ষা বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড স্টেটস এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) নথি বিশ্লেষণ করা হয়। এখানে আরেকটি ভাসমান জ্বালানি প্রকল্পের জন্য নথি জমা দেয় নর্থইস্ট গেটওয়ে এলএলসি।

এই নথিতে বিশ্বের প্রথম ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ প্রকল্প, যেটি যুক্তরাষ্ট্রেরই লুইজিয়ানাতে, গাল্ফ গেটওয়ের সঙ্গে এক্সেলেন্সের সরাসরি সংযোগ যাচাই করা সম্ভব হয়।

ওই আবেদনে বলা হয়, গাল্ফ গেটওয়েতে প্রথম প্রজন্মের দুটি পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। এই দুটির একটি হলো এক্সেলেন্স।

সহায়ক নথি ২.১
ইপিএ নথিতে গাল্ফ গেটওয়ের জাহাজ হিসেবে এক্সেলেন্সের নাম
EPA Northeast Gateway application page showing that Excelsior and Excellence were already operational at Gulf Gateway
U.S. Environmental Protection Agency · Northeast Gateway applicationEPA-এর মূল PDF খুলুন

ইপিএ-তে পাওয়া তথ্য আমরা পুনরায় মিলিয়ে দেখি এক্সমার'র ২০০৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের সাথে।

এক্সমার হলো বেলজিয়ামের একটি সামুদ্রিক পরিবহন কোম্পানি, যার প্রধান কার্যালয় এন্টওয়ার্পে। এটি গ্যাস পরিচালনা, পরিবহন এবং রূপান্তরের জন্য ভাসমান প্রযুক্তি সরবরাহ করে।

এক্সমারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেলেন্স ২০০৫ সালের মে মাসে ডিএসএমই (ডেইউ শিপবিল্ডিং অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং – বর্তমানে হানওয়া ওশান) থেকে সরবরাহ করা হয়। একই সময়ে এক্সিলারেট এনার্জির কাছে এটি ২০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়।

একই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের হারিকেন ক্যাটরিনার সময় জাহাজটির সক্রিয় থাকার তথ্যও রয়েছে। এই কর্পোরেট নথি পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্সের সঙ্গে ২০০৫ সালে এক্সিলারেট এনার্জির সম্পর্ক চিহ্নিত করে।

সহায়ক নথি ২.২
এক্সমার প্রতিবেদনে এক্সেলেন্সের ডেলিভারি ও গাল্ফ গেটওয়ে কার্যক্রম
EXMAR Annual Report 2005-এ Excellence-এর delivery, charter এবং Hurricane Katrina সময়ের কার্যক্রম
EXMAR · Annual Report 2005মূল PDF খুলুন

সব নথি ও সহায়ক নথি মিলিয়ে দেখা যায়, মহেশখালীতে নিয়োজিত পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্স হলো এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত সেই জাহাজ; যা ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গাল্ফ গেটওয়ে প্রকল্পে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।

এরপর এক্সেলেন্স কোথায় গিয়েছিল?

এই প্রশ্নের সবচেয়ে সরাসরি জবাব পাওয়া যায় এক্সমার প্রকাশিত ইতিহাসে।

এতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের মে মাসে এক্সেলেন্স ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্ট গেটওয়ে টার্মিনালের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। জাহাজটি নিজস্ব পুনঃগ্যাসীকরণ ব্যবস্থায় এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে সমুদ্রে তলদেশের পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি গ্রিডে সরবরাহ করেছিল।

নথি ৩
এক্সেলেন্স দিয়ে নর্থইস্ট গেটওয়ের কার্যক্রম উদ্বোধন

সমসাময়িক শিল্পসংবাদেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

২০০৮ সালের ১৯ মে প্রকাশিত অয়েল অ্যান্ড গ্যাস জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেলেন্স যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে নর্থইস্ট গেটওয়ে টার্মিনালের উদ্বোধনী এলএনজি কার্গো সরবরাহ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে।

জাহাজটি সমুদ্রেই এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে হাবলাইন পাইপলাইন ব্যবস্থায় সরবরাহ করেছিল।

সহায়ক নথি ৩.১
শিল্পসংবাদে নর্থইস্ট গেটওয়ের উদ্বোধনী কার্গোর তথ্য

লুইজিয়ানা থেকে মহেশখালী?

লুইজিয়ানার গাল্ফ গেটওয়ে থেকে বাংলাদেশের মহেশখালীতে মোতায়েন একদিনে বা সরাসরি হয়নি।

বাংলাদেশে নিয়োজিত হওয়ার আগে নানা দেশের অন্তত সাতটি জায়গায় মোতায়েন হয়েছে এক্সেলেন্স। বিভিন্ন সরকারি নথি, শিল্পখাতের প্রকাশনা, বন্দর রেকর্ড ও তারিখযুক্ত ছবি মিলিয়ে এক্সেলেন্সের এই জীবনপথ পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছে।

  1. লুইজিয়ানা, যুক্তরাষ্ট্র

    গালফ গেটওয়ে

    যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নথিতে গালফ গেটওয়েকে বিশ্বের প্রথম সনদপ্রাপ্ত সামুদ্রিক এলএনজি বন্দর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিল্পখাতের নথিতে আইএমও ৯২৫২৫৩৯-সহ এক্সেলেন্সকে প্রকল্পটির ভাসমান পুনঃগ্যাসীকরণ ইউনিট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

    উৎস: এমএআরএডি ও শিল্পখাতের নথি

    নথি দেখুন
  2. ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র

    নর্থইস্ট গেটওয়ে

    এমএআরডি'-এ'র তথ্য অনুযায়ী, নর্থইস্ট গেটওয়েতে সমুদ্রে ভাসমান জাহাজে নিরাপদে গ্যাস ভরার প্রযুক্তির মাধ্যমে সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে গ্যাস পাঠানো হতো। এক্সমারের ইতিহাস জানায়, ২০০৮ সালের মে মাসে এক্সেলেন্স এই টার্মিনালের কার্যক্রম উদ্বোধন করে।

    উৎস: এমএআরএডি ও এক্সমার

    নথি দেখুন
  3. ইসরায়েল

    হাদেরা

    বিশ্বব্যাংকের একটি উপস্থাপনায় হাদেরা এলএনজি টার্মিনালে পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ হিসেবে এক্সেলেন্স ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। ২০১৪ সালের আগস্টে সেখানে এক্সেলেন্সের পরিবর্তে এক্সপেডিয়েন্ট কাজ শুরু করে।

    উৎস: রয়টার্স, বিশ্ব ব্যাংক ও এনার্জি ইন্টেলিজেন্স

    নথি দেখুন
  4. ফ্রান্স

    ফস কাভাও

    এলেঙ্গির জলযান যাতায়াতের নথিতে ২০১৫ সালে ফস কাভাও এলএনজি টার্মিনালে এক্সেলেন্সের আগমনের তথ্য পাওয়া যায়। নথিতে জাহাজটির আইএমও নম্বর ৯২৫২৫৩৯ উল্লেখ আছে।

    উৎস: এলেঙ্গি জলযান নথি

    নথি দেখুন
  5. জিব্রাল্টার

    জিব্রাল্টার

    শিপস্পটিংডটকমে প্রকাশিত একটি তারিখযুক্ত ছবিতে এক্সেলেন্সকে জিব্রাল্টার প্রণালীতে দেখা যায়।

    উৎস: শিপস্পটিং · জে. জে. ফার্নান্দেজ

    ছবি দেখুন
  6. কাতার

    রাস লাফান

    গালফ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারগ্যাসের প্রথম বাংলাদেশগামী এলএনজি কার্গো রাস লাফান থেকে এক্সেলেন্সের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

    উৎস: গাল্ফ টাইমস

    প্রতিবেদন দেখুন
  7. বাংলাদেশ

    মহেশখালী

    ২০১৮ সালে এক্সেলেন্স মহেশখালীতে কাজ শুরু করে।

    উৎস: বাংলাদেশে কমিশনিং ও প্রকল্পসংক্রান্ত নথি

সনদ আছে; পূর্ণ সার্ভে রিপোর্ট নেই

বিশ্বের প্রথম ভাসমান এলএনজি প্রকল্প গাল্ফ গেটওয়েতে স্বল্প সময় ব্যবহৃত একই পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্স (আইএমও ৯২৫২৫৩৯) বাংলাদেশের মহেশখালীতে নিয়োজিত রয়েছে। এই বিষয়টি সরকারি নথি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশনা, বন্দর রেকর্ড এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট দলিল মিলিয়ে স্পষ্ট।

২০০৫ সালে তৈরি জাহাজটি এখনও কারিগরি মান বজায় রাখছে কিভাবে? এর উত্তর পেতে খোঁজা হয় জাহাজটি শ্রেণি সনদ, সার্ভে এবং রক্ষণাবেক্ষণের উন্মুক্ত তথ্য।

এক্সেলেন্সের সক্রিয় শ্রেণি সনদ পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো ত্রুটি ধরা পড়েছিল কি না, কী মেরামত হয়েছে এবং কোন শর্তে সনদ নবায়ন হয়েছে – সেসব তথ্য পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর এক্সেলেন্স থেকে গ্যাস সরবরাহ কয়েক দফা বিঘ্নিত হয়েছে।

২০১৮
কারিগরি

হাইড্রোলিক সমস্যা

দুটি এলএনজি কার্গোর সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এটি নতুন প্রকল্পটির শুরু দিককার একটি বড় ব্যাঘাত।

পরবর্তী বছরগুলো
বিভিন্ন কারণ

রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি

পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পৃথক কারিগরি সমস্যায় কয়েক দফা সরবরাহ ব্যাহত হয়।

জুলাই ২০২৬
নিরাপত্তা

এলএনজি স্থানান্তরের সময় আগুন

জুলাই ২০২৬-এর এই ঘটনা স্থানান্তর কার্যক্রমে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জাগাতে পারে।

বিশ্বের সব বড় বাণিজ্যিক জাহাজের মতো এক্সেলেন্স ও সামিট এলএনজি-ও একটি আন্তর্জাতিক শ্রেণি সনদের আওতায় পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের এই দুই পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজের ক্ষেত্রে সনদ দেয়া সংস্থাটি হলো ব্যুরো ভেরিতাস (বিভি)।

শ্রেণিবিন্যাস সংস্থা জাহাজের নকশা, কাঠামো, যন্ত্রপাতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলো নির্ধারিত প্রকৌশল মান পূরণ করছে কি না, তা পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করে। এসব পরিদর্শনের ভিত্তিতেই শ্রেণি সদন নবায়ন করা হয়।

ব্যুরো ভেরিতাসের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০০৫ সালে নির্মাণের পর থেকে এক্সেলেন্স ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় রয়েছে। তথ্যভান্ডারে ২০০৫, ২০০৭, ২০১২, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নবয়ানের তথ্য দেখা যায়।

Excellence

শ্রেণি সক্রিয়
সনদ ইস্যু৩১ ডিসেম্বর ২০২৩
কার্যকর৯ এপ্রিল ২০২৮ পর্যন্ত

Summit LNG

শ্রেণি সক্রিয়
সনদ ইস্যু৩ জুলাই ২০২৪
কার্যকর২০ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত

সর্বশেষ সনদ ইস্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর; মেয়াদ ২০২৮ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত।

সামিট এলএনজি ২০০৬ সালে তৈরি। ব্যুরো ভেরিতাসের রেকর্ড অনুযায়ী, জাহাজটির সর্বশেষ শ্রেণি সনদ ইস্যু হয়েছে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই এবং তা ২০২৯ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর।

নথি ৪
ব্যুরো ভেরিতাসে সামিট এলএনজির সক্রিয় শ্রেণিসনদ
Summit LNG-এর Bureau Veritas শ্রেণি নথি
Bureau Veritas Fleet Registerমূল PDF খুলুন

পর্যালোচনা করা নথিতে পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ দুটি আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস হারিয়েছে বা বৈধ শ্রেণিসনদ ছাড়া পরিচালিত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষ উন্মুক্ত তথ্য থেকে অন্তত এটুকু যাচাই করতে পারে।

এই নথি থেকে জানা যায় না যে, সনদ নবায়নের আগে পরিদর্শকেরা কী দেখেছিলেন, কোনো ত্রুটি শনাক্ত করেছিলেন কি না, কোন অংশ মেরামতের সুপারিশ করেছিলেন কি না বা কোন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করেছিলেন।

এই অনুসন্ধানে এমন কোনো উন্মুক্ত নথি পাওয়া যায়নি, যেখানে নিচের তথ্যগুলো বিস্তারিত জানা যায়:

  • পূর্ণ সার্ভে প্রতিবেদন ও পরিদর্শকের পর্যবেক্ষণ
  • হালের পুরুত্ব পরিমাপ ডেটা
  • যন্ত্রপাতির বিস্তারিত কারিগরি মূল্যায়ন
  • শনাক্ত ত্রুটির তালিকা
  • মেরামতের নির্দেশনা বা শ্রেণি নবায়নের আগে জমা দেওয়া প্রকৌশলগত নথি
  • পূর্ণ ভেটিং রেকর্ড

একটি জাহাজের শ্রেণি সনদ নবায়েনর সময় এ ধরনের বিস্তারিত কারিগরি নথি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সেগুলো সাধারণত জাহাজের মালিক, অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

ফলে জনগণ জাহাজটির শ্রেণি সনদ আছে কি নেই তা যাচাই করতে পারে। কিন্তু কী পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সনদ দেওয়া বা নবায়ন করা হয়েছে, তা জানতে পারে না।

দুই কোটি ৩০ লাখ ডলারে কী মেরামত হলো?

এক্সেলেন্সের মেরামত নিয়ে বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রাইডকিং (সাধারণত এসময় জাহাজের নির্ধারিত মেরামত হয়ে থাকে) কয়েক দফা পিছিয়ে দেয়ার খবর জানায় দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

পরে জাহাজটি সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় এবং ড্রাইডকিং শেষে মহেশখালীতে ফিরে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে। পত্রিকাটির আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেরমাতের পর টার্মিনালটির পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা বছরে প্রায় ৩.৭৫ মিলিয়ন টন থেকে ৪.৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত হয়েছে।

ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেয়া ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এক্সেলারেট এনার্জি জানায়, এক্সেলেন্সের ড্রাইডকিংয়ের কারণে কোম্পানির পরিচালন আয় দুই কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার কমেছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক্সেলেন্সের ড্রাইডকিং ব্যয় ছিল প্রতিষ্ঠানটির ওই বছরের ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

নথি ৫
ড্রাইডকিংয়ে পরিচালন আয় দুই কোটি ৩০ লাখ ডলার কমার তথ্য
Excelerate Energy ২০২৩ Annual Report-এ Excellence-এর drydocking এবং ২০.৩ মিলিয়ন ডলারের operating income reduction লাল বক্সে চিহ্নিত
Excelerate Energy 2023 Annual Report (SEC)মূল নথি খুলুন

বাংলাদেশের পত্রিকার খবর ও এক্সিলারেট এনার্জির বার্সিক প্রতিবেদন দুই জায়গাতেই ড্রাইডকিংয়ের কথা বলা হয়েছে। এই শব্দ থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় ওই সময় আসলে জাহাজে কী ঘটে।

২০২৩ সালে এক্সেলেন্সের ড্রাইডকিং সিঙ্গাপুরের যে প্রতিষ্ঠানের আওতায় হয়েছে আমরা সেটি খুঁজে বের করি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত প্রতিষ্ঠানটির নাম সিট্রিয়াম।

তাদের ২০২৪ সালে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবা নেয়া প্রতিষ্ঠান/জাহাজগুলোর একটি এক্সেলেন্স। এতে বলা হয়, পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্সের মেরামত ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

সহায়ক নথি ৫.১
সিট্রিয়ামের নথিতে এক্সেলেন্সের মেরামত ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ
Seatrium ২০২৪ Annual Report-এ Excellence FSRU Repairs & Upgrades লাল বক্সে চিহ্নিত
Seatrium 2024 Annual Reportমূল নথি খুলুন

এক্সিলারেট এনার্জির ২০২২ সালের এসইসি নথিতে এক্সেলেন্সের সম্ভাব্য কর্মজীবন ৩০ বছর ধরা হয়েছিল। পাঁচ বছর পরপর এটি ড্রাইডকিংয়ের কথাও বলা হয়েছিল।

ব্যুরো ভেরিতাসের উন্মুক্ত নথিতে আলাদাভাবে এক্সেলেন্সের “VeriSTAR-HULL DFL 40 years” লেখা দেখা যায়। উন্মুক্ত কোনো নথি থেকে এ দুটি সময়ের সম্পর্কের পূর্ণ প্রকৌশলগত ব্যাখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

ড্রাইডকে কোনো যন্ত্রাংশ মেরামত বা বদলানো হয়েছিল? শ্রেণি সনদের জন্য করা সার্ভেতে কি কোনো সমস্যা পাওয়া গিয়েছিল? এ সম্পর্কিত উন্মুক্ত কোনো নথি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রশ্নটি শুধু একটি পুরোনো জাহাজের নয়

উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে এক্সেলেন্সের ইতিহাস, অবস্থান মেরামত ব্যয় ইত্যাদি জানা সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর বিস্তারিত সার্ভে, মেরামত ও শ্রেণি সনদ তথ্য জনসমক্ষে নেই। ফলে এর প্রকৌশলগত অবস্থার স্বাধীন মূল্যায়ন সম্ভব নয়।

অবশ্য নথির উন্মুক্ততার এই ঘাটতি ভাসমান গ্যাস টার্মিনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি অবকাঠামোকে অনিরাপদ প্রমাণ করে না। তবে এ বিষয়ে জনজবাবদিহির জন্য প্রয়োজনীয় উন্মুক্ত তথ্যের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে তোলে।

পদ্ধতি পড়ুন

এই অনুসন্ধানে পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্সের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থান পুনর্গঠনের জন্য জাহাজটির আইএমও নম্বর ৯২৫২৫৩৯ ব্যবহার করা হয়েছে। একই আইএমও নম্বর ধরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ফ্রান্স, কাতার, সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের সরকারি, নিয়ন্ত্রক, শ্রেণিবিন্যাস, বন্দর, কোম্পানি এবং শিল্পখাতের নথি মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

ব্যবহৃত উৎসের মধ্যে ছিল সরকারি সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি নথি, বিশ্বব্যাংক ও জেওজিএমইসি'র প্রতিবেদন, ব্যুরো ভেরিতাসের শ্রেণি সনদ তথ্য, এক্সিলারেট এনার্জির এসইসি নথি, সিট্রিয়ামের বার্ষিক প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন। প্রতিটি উৎস থেকে পাওয়া তথ্য জাহাজের নাম, আইএমও নম্বর, সময়কাল, অবস্থান ও প্রকল্পের নামের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে।

যাত্রাপথের ধাপ নিশ্চিত হতে যেখানে সম্ভব একাধিক উন্মুক্ত নথি ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো নথি জাহাজের উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও আগমন বা প্রস্থানের নির্দিষ্ট তারিখ না দিলে সেই সীমাবদ্ধতা বর্ণনায় রাখা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি অবস্থার ক্ষেত্রে প্রকাশ্য নথিতে যা পাওয়া গেছে শুধু সেটিই উপস্থাপন করা হয়েছে। পূর্ণ শ্রেণি জরিপ প্রতিবদেন, শ্রেণি পর্যায়ের তালিকা, সুনির্দিষ্ট প্রকৌশতগত তথ্য উন্মুক্ত প্রকাশনায় পাওয়া না গেলে সেগুলো সম্পর্কে অনুমান করা হয়নি। নথির অনুপস্থিতিকে জাহাজ অনিরাপদ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি।

নথির উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহৃত স্ক্রিনশটগুলো মূল নথির সংশ্লিষ্ট অংশ দেখানোর জন্য কাটা বা চিহ্নিত করা হয়েছে। লাল বক্স শুধু সংশ্লিষ্ট বাক্য, অঙ্ক বা প্রকল্পের নাম পাঠক যেন সহজে বুঝতে পারেন সেজন্য যোগ করা হয়েছে; মূল নথির লেখা পরিবর্তন করা হয়নি।

সীমাবদ্ধতা

এই অনুসন্ধান উন্মুক্ত নথির ওপর নির্ভরশীল। অপ্রকাশিত বাণিজ্যিক চুক্তি, পূর্ণাঙ্গ জরিপ নথি, ভেটিং রেকর্ড ও কর্তৃপক্ষীয় অভ্যন্তরীণ নথি এই অনুসন্ধানের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে জাহাজটির সম্পূর্ণ প্রকৌশলগত অবস্থা বা প্রতিটি মোতায়েনের বিস্তারিত পরিচালন তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এই অনুসন্ধানটি তৈরি করা হয়েছে রিপোর্ট ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের সহায়তায়, যে উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে স্থানীয় স্বাধীন সাংবাদিকতাকে সহায়তা করে।