সনদ আছে; পূর্ণ সার্ভে রিপোর্ট নেই
বিশ্বের প্রথম ভাসমান এলএনজি প্রকল্প গাল্ফ গেটওয়েতে স্বল্প সময় ব্যবহৃত একই পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ এক্সেলেন্স (আইএমও ৯২৫২৫৩৯) বাংলাদেশের মহেশখালীতে নিয়োজিত রয়েছে। এই বিষয়টি সরকারি নথি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশনা, বন্দর রেকর্ড এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট দলিল মিলিয়ে স্পষ্ট।
২০০৫ সালে তৈরি জাহাজটি এখনও কারিগরি মান বজায় রাখছে কিভাবে? এর উত্তর পেতে খোঁজা হয় জাহাজটি শ্রেণি সনদ, সার্ভে এবং রক্ষণাবেক্ষণের উন্মুক্ত তথ্য।
এক্সেলেন্সের সক্রিয় শ্রেণি সনদ পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো ত্রুটি ধরা পড়েছিল কি না, কী মেরামত হয়েছে এবং কোন শর্তে সনদ নবায়ন হয়েছে – সেসব তথ্য পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর এক্সেলেন্স থেকে গ্যাস সরবরাহ কয়েক দফা বিঘ্নিত হয়েছে।
হাইড্রোলিক সমস্যা
দুটি এলএনজি কার্গোর সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এটি নতুন প্রকল্পটির শুরু দিককার একটি বড় ব্যাঘাত।
রক্ষণাবেক্ষণ ও ত্রুটি
পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পৃথক কারিগরি সমস্যায় কয়েক দফা সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এলএনজি স্থানান্তরের সময় আগুন
জুলাই ২০২৬-এর এই ঘটনা স্থানান্তর কার্যক্রমে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ জাগাতে পারে।
বিশ্বের সব বড় বাণিজ্যিক জাহাজের মতো এক্সেলেন্স ও সামিট এলএনজি-ও একটি আন্তর্জাতিক শ্রেণি সনদের আওতায় পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের এই দুই পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজের ক্ষেত্রে সনদ দেয়া সংস্থাটি হলো ব্যুরো ভেরিতাস (বিভি)।
শ্রেণিবিন্যাস সংস্থা জাহাজের নকশা, কাঠামো, যন্ত্রপাতি এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলো নির্ধারিত প্রকৌশল মান পূরণ করছে কি না, তা পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করে। এসব পরিদর্শনের ভিত্তিতেই শ্রেণি সদন নবায়ন করা হয়।
ব্যুরো ভেরিতাসের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০০৫ সালে নির্মাণের পর থেকে এক্সেলেন্স ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাসের আওতায় রয়েছে। তথ্যভান্ডারে ২০০৫, ২০০৭, ২০১২, ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নবয়ানের তথ্য দেখা যায়।
Excellence
শ্রেণি সক্রিয়Summit LNG
শ্রেণি সক্রিয়সর্বশেষ সনদ ইস্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর; মেয়াদ ২০২৮ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত।
সামিট এলএনজি ২০০৬ সালে তৈরি। ব্যুরো ভেরিতাসের রেকর্ড অনুযায়ী, জাহাজটির সর্বশেষ শ্রেণি সনদ ইস্যু হয়েছে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই এবং তা ২০২৯ সালের ২০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর।
পর্যালোচনা করা নথিতে পুনঃগ্যাসীকরণ জাহাজ দুটি আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস হারিয়েছে বা বৈধ শ্রেণিসনদ ছাড়া পরিচালিত হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সাধারণ মানুষ উন্মুক্ত তথ্য থেকে অন্তত এটুকু যাচাই করতে পারে।
এই নথি থেকে জানা যায় না যে, সনদ নবায়নের আগে পরিদর্শকেরা কী দেখেছিলেন, কোনো ত্রুটি শনাক্ত করেছিলেন কি না, কোন অংশ মেরামতের সুপারিশ করেছিলেন কি না বা কোন যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করেছিলেন।
এই অনুসন্ধানে এমন কোনো উন্মুক্ত নথি পাওয়া যায়নি, যেখানে নিচের তথ্যগুলো বিস্তারিত জানা যায়:
- পূর্ণ সার্ভে প্রতিবেদন ও পরিদর্শকের পর্যবেক্ষণ
- হালের পুরুত্ব পরিমাপ ডেটা
- যন্ত্রপাতির বিস্তারিত কারিগরি মূল্যায়ন
- শনাক্ত ত্রুটির তালিকা
- মেরামতের নির্দেশনা বা শ্রেণি নবায়নের আগে জমা দেওয়া প্রকৌশলগত নথি
- পূর্ণ ভেটিং রেকর্ড
একটি জাহাজের শ্রেণি সনদ নবায়েনর সময় এ ধরনের বিস্তারিত কারিগরি নথি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সেগুলো সাধারণত জাহাজের মালিক, অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
ফলে জনগণ জাহাজটির শ্রেণি সনদ আছে কি নেই তা যাচাই করতে পারে। কিন্তু কী পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সনদ দেওয়া বা নবায়ন করা হয়েছে, তা জানতে পারে না।